চীনের চাহিদায় ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে অস্ট্রেলীয় উলের দাম

চীনে চাহিদা বৃদ্ধি ও সরবরাহ নিয়ে শঙ্কার কারণে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে অস্ট্রেলীয় উলের দাম।

চীনে চাহিদা বৃদ্ধি ও সরবরাহ নিয়ে শঙ্কার কারণে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে অস্ট্রেলীয় উলের দাম। টানা ১১ সপ্তাহের মতো বেড়ে পণ্যটির নিলামে রেকর্ড তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর নিক্কেই এশিয়া।

অস্ট্রেলিয়ান উল এক্সচেঞ্জের (এডব্লিউইএক্স) ইস্টার্ন মার্কেট ইনডেক্স (ইএমআই) গত সপ্তাহে মাত্র দুদিনের লেনদেনে উলের দাম বেড়েছে কেজিতে ১ দশমিক ১২ অস্ট্রেলীয় ডলার (মার্কিন মুদ্রায় ৭০ সেন্টের সমান)। এতে এ সূচকে ১৯৯৬ সালের পর থেকে পঞ্চম বৃহত্তম সাপ্তাহিক উত্থান দেখা গেছে।

উলের দামে টানা ১১ সপ্তাহের এ বৃদ্ধিকে ১৯৮৭ সালের পর সবচেয়ে দীর্ঘ ‘ঊর্ধ্বমুখী ধারা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এডব্লিউইএক্সের বাজার তথ্য ব্যবস্থাপক লায়নেল প্লাংকেট। তিনি বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহেই দাম বেড়েছে, আর প্রায় প্রতিদিনই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।’

অস্ট্রেলিয়ার উল উৎপাদন কয়েক বছর ধরে কমছে। খরচ বেড়ে যাওয়া, দামে নিম্নমুখিতা ও খরার কারণে পেশা ছেড়ে দিয়েছেন অনেক কৃষক। ২০২৪-২৫ বিপণন বর্ষে (জুলাই-জুন) উল উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় ১১ দশমিক ৮ শতাংশ কমতে পারে বলে আগস্টে পূর্বাভাস দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ান উল প্রডাকশন ফরকাস্টিং কমিটি। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ান উল টেস্টিং অথরিটি জানিয়েছে, আগস্টে মান পরীক্ষার জন্য জমা পড়া উলের পরিমাণ এক বছরের ব্যবধানে কমেছে ২৪ শতাংশ।

বিশ্ববাজারে ২০২৪ সালে উল রফতানিতে অস্ট্রেলিয়ার হিস্যা ছিল ৫৫ শতাংশ। এ সময় এককভাবে চীন আমদানি করেছে ৮৫ শতাংশ। তবে অস্ট্রেলিয়া থেকে রফতানি ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০২২ সালে চীনে উল বিক্রি করে অস্ট্রেলিয়ার আয় হয়েছিল ২৩০ কোটি ডলার। ২০২৩ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১৬২ কোটি ডলারে। আর গত বছর তা আরো কমে ১৫২ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে।

নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান রাবোব্যাংকের পণ্যবাজার বিশ্লেষক পল জুলস বলেন, ‘চীনে বর্তমানে উলের মজুদ প্রায় শেষের পথে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সময় অস্ট্রেলিয়া থেকে সরবরাহ কমায় বাড়ছে প্যানিক বায়িং (সরবরাহ শেষ হয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করে ক্রয় বৃদ্ধি)।’

অস্ট্রেলীয় উল রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ফক্স অ্যান্ড লিলির জাতীয় উলব্রোকার ব্যবস্থাপক ইমন টিমস বলেন, ‘দেড়-দুই বছর ধরে উলের সরবরাহ কমছে। সামনে তা আরো কমবে। বার্তাটি চীনা শিল্পের মধ্যে প্রবলভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বাজারে এখন এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।’

আরও